Blog

ভাতাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন ১৩ হাজার

মাসিক সম্মানী ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়া ১ লাখ ৯৩ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম গত বছরের অক্টোবরে একটি সফটওয়্যারে যুক্ত করার পরই হঠাৎ সংখ্যাটি ২১ হাজার কমে যায়। যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু চার মাস পরও ১৩ হাজার জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকে হয়তো একাধিক নামে, নয়তো জাল সনদে এত দিন ভাতা তুলেছেন।

ওই ১৩ হাজার ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আর নেই বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, এত বছর ওই ব্যক্তিরা যে সুবিধা নিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এর আগে ছিল ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুই ঈদে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবসের ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পান। বছরে একজন সব মিলিয়ে ভাতা পান ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়। তখন ভাতা ছিল ৩০০ টাকা। ধাপে ধাপে তা বেড়ে ২০০৮ সালে হয় ৯০০ টাকা। ২০১৪ সালে হয় ৫ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে হয় ১০ হাজার টাকা।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এত দিন মন্ত্রণালয় ইউএনওদের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকা পাঠাত। ইউএনও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা জমা দিতেন। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) সফটওয়্যারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পর গত বছরের অক্টোবর থেকে সরাসরি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভাতার টাকা যাচ্ছে। কারও সনদ জাল প্রমাণিত হলে বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ত্রুটি থাকলে তাঁদের নাম এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর যাঁদের বয়স ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাসের কম ছিল, তাঁদের নাম এমআইএসে যুক্ত হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা নেওয়া ১৩ হাজার ব্যক্তিকে চার মাসেও খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ জন্য বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। শুধু মন্ত্রণালয়কে এ জন্য দোষ না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যাঁরা এসব সনদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন, জামুকার যাঁরা সুপারিশ করেছেন, মন্ত্রী বা সচিবদের মধ্যে যাঁরা ওই ব্যক্তিদের সনদ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা বছরে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা পান, তাহলে ওই ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধা কত টাকা নিয়েছেন, তার হিসাব জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে মন্ত্রণালয়কে।’

এদিকে গত ৩ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকার খসড়া প্রকাশসংক্রান্ত একটি চিঠিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, মন্ত্রণালয় স্বীকৃত ৩৩ ধরনের প্রমাণকের মধ্যে যেকোনো একটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম থাকলে এমআইএসে নাম যুক্ত করা হয়েছে। মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সুবিধাভোগীদের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে এমআইএসে। যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম বা পরিচিতি বা মুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত কোনো প্রমাণ বা ব্যাংক হিসাবে তথ্যগত কোনো ভুল থাকে, তবে তা ১৫ মার্চের মধ্যে সংশোধন করে নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশিত তালিকার মধ্যে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও পিতার নামের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণকে নাম ও পিতার নামে মিল না থাকলে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার। তবে আইনি জটিলতার কারণে ভাতা পেতেন ১ লাখ ৯৩ হাজার। এর মধ্যে যে ১ লাখ ৮০ হাজারের নাম এমআইএসে যুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিবেচনা নেওয়া হয়েছে লাল মুক্তিবার্তা, ‘ভারতীয় তালিকা’ ও ‘গেজেট’। নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণের জন্য ৩৩ ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামই একেক নথিতে একেক রকম। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নামই বিবেচনা নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা এত দিন মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা নিয়েছেন, তাঁদের কাছে তা ফেরত চাওয়া হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনিয়ম করে থাকলে তাঁকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নামের তালিকা এমআইএস সফটওয়্যারে যুক্ত করার পর নানা অনিয়ম বেরিয়ে আসছে।

বর্জন করলেও ভোটে থাকবে বিএনপি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটের মাঠে থাকবে বিএনপি। দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রভাবে দলীয় নেতারা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেক্ষেত্রে কাউকে দল থেকে শোকজ কিংবা বহিষ্কার করা হবে না। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্ত জানার পর বিএনপির সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীই স্বতন্ত্র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামগঞ্জে চালাচ্চেন প্রচার। এদিকে শেষ ধাপের ১১টি পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। শিগগিরই এসব পৌর ভোট বর্জনের ঘোষণা দিতে পারে দলটি। তবে সংসদ উপনির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রথম ধাপে দেশজুড়ে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদে ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউনিয়নে নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশন সভায় অনুমোদনের পর ইউপি ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ১৮ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, এ সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দেশের ভোটিং সিস্টেমটাই ভেঙে ফেলেছে। তাদের অধীনে এ দেশে আর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচন আমরা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ নির্বাচনে কাউকে অংশ নিতে আমরা যেমন জোর করব না, তেমনি কেউ স্বতন্ত্রভাবে ভোট করতে চাইলে বাধাও দেব না।

তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে ভোট করার বিপক্ষে। আমরা নির্বাচন কমিশনে লিখিত যে সুপারিশ দিয়েছি সেখানেও এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কারণ ইউপি নির্বাচনের ভোটে এলাকায় সব সময় একটা উৎসবের আমেজ দেখা যেত। এসব ভোটে এলাকায় আত্মীয়স্বজন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রভাব বিশেষ ভূমিকা রাখত। যারাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবার জন্য কাজ করেছে। কিন্তু ইউপিতে দলীয় প্রতীক দেওয়ায় সেই ঐহিত্য নষ্ট হয়ে গেছে। নিকট-আত্মীয় কেউ নির্বাচন করলেও রাজনীতির কারণে তার বিরোধিতা করতে হচ্ছে। এতে করে দীর্ঘদিনের আত্মীয়তার বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা ইউপি নির্বাচন দলীয়ভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শুধু তৃণমূলের ঐতিহ্যের জন্যই নয়, আরও বেশ কয়েকটি কারণেও ইউপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙা করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তা অনেকাংশে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভোটের মাঠে নেতাকর্মীরা নতুন করে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে হয়েছেন এলাকাছাড়া। তাছাড়া অতীতের ভোট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যেন ধানের শীষের প্রতিপক্ষ। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে মিলে ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত করাই যেন তাদের মূল এজেন্ডা। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকই দেওয়া হবে না। যাতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ধানের শীষ ফোবিয়া কিছুটা কমে। কেউ যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চায় তাতে দলীয়ভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। ধানের শীষ প্রতীক না থাকলে সরকার ও ইসি কিছুটা হলেও নমনীয় হবে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন থাকবে না। সেক্ষেত্রে দলীয় কোনো নেতা স্থানীয় ও জনপ্রিয়তার কারণে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে পারে। স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান হলেও ওই নেতা বিএনপির পক্ষেই কাজ করবে বলে আশা করি।

জানতে চাইলে গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কল্পনাও করা যায় না। দলীয়ভাবে নির্বাচন করায় নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসে হামলা-মামলা ও নির্যাতন। তাই দলীয় প্রতীকে ভোট বর্জনের ঘোষণাকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। তবে দলীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করলেও আমি স্বতন্ত্রভাবে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ এলাকায় আমার পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। আত্মীয়স্বজন আছে অসংখ্য। নিজের জনপ্রিয়তা ও সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা পেলে স্বতন্ত্রভাবে ভোট করেও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে যদি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয় আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত বেশিরভাগ নেতা নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। এক নেতা বলেন, পৌর ও ইউপি দুটোই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইতোমধ্যে আমরা ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। এরপর যদি বাকি পৌর নির্বাচনে যাই তাহলে তা দ্বৈতনীতি বলে অনেকে মনে করবে। তাই উচিত হবে বাকি পৌর ভোটও বর্জন করা। তার এ যুক্তির পক্ষে কয়েক নেতা একমত পোষণ করেন। আগামী ১১ এপ্রিল শেষ ধাপের ১১ পৌরসভার ভোট হবে। ১৮ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপি এখন পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেনি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ উপনির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০ ঘণ্টা পরও ৪ জেলায় রেল যোগাযোগ বন্ধ, তদন্ত কমিটি গঠন

কুষ্টিয়া স্টেশনসংলগ্ন মিলপাড়া এলাকায় মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে রেলওয়ে ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার ২০ ঘণ্টা পরও কুষ্টিয়ার সঙ্গে খুলনা, রাজশাহী, গোয়ালন্দ ও ফরিদপুরের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

গোয়ালন্দ-পোড়াদহ রুটে ট্রেন চলাচল শনিবার বিকাল ৪টা নাগাদ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকায় রেললাইনে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রলির সঙ্গে সংঘর্ষে লাইনচ্যুত হয় গমবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ট্রেনের লাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশি জোনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে এসে লাইনচ্যুত পাঁচটি বগি উদ্ধারে কাজ শুরু করে।

সারারাত কাজ করে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিনটি বগি রেললাইন থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী দল। বাকি দুটি সরিয়ে লাইন মেরামত করতে আরও ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানান কুষ্টিয়া রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এম এ জামান।

এদিকে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে রেলওয়ে ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলওয়ের পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর (পিডিবিআই) সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ শাহীদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, একটি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) আশীষ কুমার মণ্ডলকে। কমিটির অন্য চার সদস্য হচ্ছেন- পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী বীরবল মণ্ডল, পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এস এম রাজিব বিল্লাহ এবং পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট রেজওয়ান উর রহমান।

কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এম এ জামানের অভিযোগ, বারবার বলার পরও শ্রমিকরা রেললাইন থেকে ট্রলি সরিয়ে না নেওয়ায় কুষ্টিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন মিলপাড়া এলাকায় ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজে নিয়োজিত স্টেশনে কর্মরত কর্মচারী (লাইনম্যান) ইব্রাহীম বলেন, শ্রমিকদের বারবার ট্রলি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকেরা ট্রলি সরিয়ে না নিয়ে উল্টো লাল নিশানা দিয়ে ট্রেন থামানোর জন্য বলেন। কিন্তু ততক্ষণে ট্রেন ঢুকে পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

পাকশী রেল বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ বীরবল মণ্ডল বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করবেন। রেলওয়ের নিয়মানুযায়ী অন দ্যা স্পট তদন্ত রিপোর্ট নেওয়া হবে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর থেকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী ও রাজশাহী-টুঙ্গিপাড়া রেলপথে পাঁচটি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আশঙ্কার চেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে করোনায়: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলের অর্থনীতি গত বছরে আশঙ্কার চেয়ে কম সংকুচিত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো বলেছেন, অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের জন্য ব্রাজিল সরকারের গৃহীত জরুরি সাহায্য কর্মসূচিকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। গতকাল বুধবার তিনি এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বছর ব্রাজিলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে বলসোনারো বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে এ হার একেবারে খারাপ নয়। অনেকে এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন।

সাংবাদিকদের সামনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মানুষ আশা করেছিল আমাদের জিডিপি ১০ শতাংশ কমে যাবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চাকা চালু করে রেখেছে সরকারের জরুরি সাহায্য।’

ব্রাজিল সরকার গত বছর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ৫৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য দেয়। এতে জিডিপির সাড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটে। এ ছাড়া দরিদ্রদের অর্থ সাহায্য করায় বলসোনারোর জনপ্রিয়তাও বেড়ে গেছে। তিনি আগামী বছর আবার ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করবেন।

বলসোনারো বলেন, তাঁর সরকার ব্রাজিলের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে সবকিছু করেছে।

অবশ্য ব্রাজিলের এই ডানপন্থী নেতা শুরুতে কোভিড-১৯কে গুরুত্ব দেননি। এর বাইরে মেয়রদের জারি করা লকডাউনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, এতে চাকরির ক্ষতি হবে এবং ব্রাজিলবাসীর কাজ দরকার।

এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো লকডাউনের বিরোধিতা করে বলেন, গভর্নরদের লকডাউনের কারণে মানুষ চাকরি হারাচ্ছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক সফরে তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন আর ঘরে বসে থাকতে চান না। মানুষ তাঁদের কাজে ফিরতে চান।

এক বছর আগে করোনা মহামারির শুরুর পর থেকে দেশটিতে আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃতের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয়। ব্রাজিলে হু হু করে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত সপ্তাহে দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। অবস্থা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতালগুলো। বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররা করোনা ঠেকাতে লকডাউনকেই অন্যতম উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু লকডাউনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো। যেসব রাজ্য লকডাউন দিচ্ছে, তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া জরুরি মহামারি সহায়তা বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

জরুরি সাহায্য বাড়ানো প্রসঙ্গে বলসোনারো বলেছেন, তাঁর সরকারের অর্থ শেষ হয়ে গেছে এবং উচ্চ সুদের জাতীয় দেনা বাড়ছে। তবে তিনি আরও চার মাস এ সহায়তা বাড়ানোর পক্ষে প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন।

মির্জাপুরে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় লিজা আক্তার (১২) নামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের সিটমামুদপুর গ্রাম থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত লিজা একই এলাকার মো. আব্দুল লতিফ মিয়ার মেয়ে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া করে গলায় ফাঁস দিয়ে লিজা আত্মহত্যা করেছে।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহত ছাত্রী মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ কারও প্রতিপক্ষ নয়: আইজিপি

পুলিশ কারও প্রতিপক্ষ নয় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক। জনগণের নিরাপত্তায় সব সময় তৎপর রয়েছে। তাহলে কেন সব সময় পুলিশকে প্রতিপক্ষ বানানো হয়? পুলিশ কারও প্রতিপক্ষ নয়।

সোমবার সকালে মিরপুর ১৪ নম্বর স্টাফ কলেজ অডিটোরিয়ামে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে ২০২১ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রেস ক্লাবের সামনে এক পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। তারপরও পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করছে। পুলিশকে পেটানোর ঘটনায় কোনও রিফ্লেকশন হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনও কথা বলেনি। যারা এদেশে বেশি বড় হয়ে এদেশের বুকে ছুরি মারতে চায় তাদের মুখে ছাই দিতে চায় শৃঙ্খলা বাহিনী।’

আইজিপি বেনজির আহমেদ আরও বলেন, ‘কোনও বিরোধী শক্তির ছোট্ট একটি অংশ রয়েছে। তা বোঝা যায়। সরকারের কোনও অর্জন কিংবা উন্নয়নে তাদের কিছু আসে যায় না।’

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলায় ছাত্রদলের ১৩ নেতাকর্মীকে সোমবার ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের সব মানুষের ডিজিটাল সুরক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এর অপপ্রয়োগ রোধে সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। বিশ্বের বহু দেশে এ আইন আছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সন্ধ্যায় শামীম আহমেদ সম্পাদিত ‘শেখ হাসিনা: ঘুরে দাঁড়ানোর বাংলাদেশ’ সচিত্র গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বইটির চলমান প্রকাশনাকে স্বাগত জানান এবং তথ্য-উপাত্তগুলো সব সময় হালনাগাদ রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে-বিদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি করোনার টিকা নিয়েও নানা অপপ্রচার চলেছে। টিকা সময়মতো আসবে না বলার পর যখন এসে গেল, তখন বলা হলো এটি ক্ষতিকর। তারপর এখন অপপ্রচারকারীরাই গোপনে-প্রকাশ্যে টিকা নিচ্ছেন।’

‘দেশের অভ্যন্তর থেকে এবং বিদেশে বসেও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্যের চরিত্র হনন করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে কতজনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তো একটা আইনের প্রয়োজন। সেটিই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, যে আইনটি দেশের সব মানুষের জন্য।’

দরবার শরীফ মেলায় বাঁশি বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩

কুমিল্লার লাকসাম কালিয়াপুর দরবার শরীফে ওরসে বসানো মেলাতে বাঁশি বাজানো কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ জন যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ (দঃ) ইউনিয়নের কালিয়াপুর-হামিরাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কালিয়াপুর দরবার শরীফের ওরসকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় মেলা বসে। করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে মেলায় শত শত দোকান বসে। এতে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে। রাতে কয়েকজন যুবক মেলায় গিয়ে বাঁশি কিনে বাজাতে গেলে বাধা দেয় মেলায় আসা কয়েকজন যুবকরা।

এ নিয়ে তরুণ যুবকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়ে।খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর এলাকার ১০/১২ জন যুবক এসে তাদের ওপর  হামলা করে। এক পর্যায়ে পাশের দোকানে থাকা ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে হামিরাবাগ এলাকার মেম্বার বেলায়েতের ছেলে আব্দুর রহমান (২০), তাজুল ইসলামের ছেলে ইউসুফ (১৯) ও একই এলাকার ইসমাইল হোসেন হৃদয়কে (১৮) ছুরিকাঘাতসহ কয়েকজনকে আহত করা হয়।

গুরুতর আহত আব্দুর রহমানকে প্রথমে লাকসামে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলায় আহত ইউসুফ মিয়া বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর এলাকার কামালের ছেলে বায়েজিদ, আবু তাহেরের ছেলে  ইসরাফিল ও মেলার দোকানি সাদেকসহ ১০-১২ জন যুবক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মেলা অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, অনুমোদন ছাড়াই এ মেলা বসানো হয়েছে। ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া করে আছেন, কষ্টে আছেন অনেকেই’

শিক্ষার্থীরা অনেকে টিউশনি করে পড়াশোনা করেন, অনেকে নিজ অর্থায়নে এখন হলের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় মেস ভাড়া করে আছেন, কষ্টে আছেন অনেকেই। আমরা তাদের এই কষ্টগুলো বুঝি।

বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি একটি চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বারবারই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কখনও ভাস্কর্যের নামে আন্দোলন করছেন, কখনও বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা নানান তথ্য প্রচার করছেন, সাজানো নাটক প্রচার করছেন। সেগুলোর সবকিছুতে বিফল হয়ে এখন আমাদের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

নানা সীমাবদ্ধতা স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে এখন আন্দোলন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের হাতেই আমরা আমাদের ভাষা আন্দোলন পেয়েছি, ভাষার অধিকার পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, গণতন্ত্রের আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। আজকে যখন বৈশ্বিক সংকট চলছে, সেই সময়ে শিক্ষাবান্ধব সরকার, বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা সকল উপাচার্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের এই করোনাসংক্রমণটি আবার ছড়িয়ে গিয়ে সারা বিশ্বে যেখানে সাফল্য অর্জন করেছে, সেই সাফল্য যেন ম্লান না হয়ে যায়। একটু কষ্ট হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৭ কলেজের ক্ষেত্রে কেন আমরা ব্যতিক্রম করছি? আমরা একান্তই মানবিক কারণে। কারণ তারা তিন বছর পিছিয়ে আছে।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাদেরকে পরীক্ষা দেবার (যেগুলো চলছিল, যেগুলো ঘোষিত আছে) সেগুলো যথারীতি চলবে-এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সারা দেশে আছে। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয় এখানে আছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তারা সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত করেছেন।  সে কারণে আজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, তারা কোনো ধরনের আন্দোলনে যাবেন না এবং তারা তিন মাস পর পরীক্ষা দেবেন। তাদের মধ্যে কারো যদি বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা ছিল।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের একটা তারিখ দেয়া আছে। পরীক্ষারও একটা নির্ধারিত তারিখ ছিল। এখানে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ও আছেন। ওনাদের সঙ্গেও আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। ৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময়, পরীক্ষার সময় এবং এই কতদিন পরীক্ষা পেছানোর কারণে কারও যদি বয়সের সমস্যাও দেখা দেয়  সেই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাটা সরকার করবে। এই সিদ্ধান্তও আমরা সেদিনই দিয়েছিলাম। কাজেই এই তিন মাস যদি পরীক্ষা না হয় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য, সার্বিক নিরাপদের জন্য আমি মনে করি, বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সকল শিক্ষার্থীরা বিষয়টা বুঝবেন। আমি মনে করি তারা বৃহত্তর স্বার্থ বুঝেন, জাতীয় স্বার্থ বুঝেন, তারা সবাই সেটিকে মেনে নেবেন।

প্রথম ডোজের পর হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমে ৯৪%

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকার কার্যকারিতা স্পষ্ট হচ্ছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমে ৯৪ শতাংশ। ফাইজার ও বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত টিকা এই ঝুঁকি কমায় ৮৫ শতাংশ। এই দুই টিকাই গুরুতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর।

এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা। গবেষণায় পুরো স্কটল্যান্ডের ৫৪ লাখ জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি যথাক্রমে ৯৪ ও ৮৫ শতাংশ কমিয়েছে।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউশার ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আজিজ শেখ ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী হওয়ার দারুণ কারণ হতে পারে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তিনি যে ফলাফলের কথা বলছেন, তা প্রাথমিক তথ্যনির্ভর। তবে আশার কথাও শুনিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত উৎসাহ পেয়েছি। টিকা যে কোভিড-১৯ সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এর জাতীয় প্রমাণ এখন আমাদের কাছে আছে।’

আজিজ শেখ বলেন, অন্য দেশগুলো এখন একই রকম দুই টিকা ও একই রকম কৌশল গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন।
স্কটল্যান্ডে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার জন্য গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে ১১ লাখ ৪ হাজার মানুষকে টিকা প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের ২১ শতাংশ জনগণ টিকার প্রথম ডোজ নেন। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার চার সপ্তাহ পরে হাসপাতালে ভর্তি ৮১ শতাংশ কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দুটি টিকার ফলাফলই একত্র করে হিসাব ধরা হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিম ম্যাকমেনামিন বলেন, ‘গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা এখন টিকা থেকে প্রত্যাশার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেতে শুরু করেছি।’
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটও তৈরি করছে। আর সেরাম ইনস্টিটিউটের এই টিকা বাংলাদেশে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত তিনটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সবার আগে ফাইজারের টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বশেষ অনুমোদন পেয়েছে অক্সফোর্ডের টিকা। অনুমোদন পাওয়া অন্যটি হলো মার্কিন কোম্পানি মডার্নার উদ্ভাবিত করোনার টিকা।