Blog

ছাত্রী অপহরণ মামলায় ৭ জনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

দিনাজপুর অফিস : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অপহৃতা মাদ্রাসা ছাত্রী মরিয়ম আখতার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী প্রদান করেছে। আটক ৭ অপহরণকারীদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল (শনিবার) দুপুর ২টায় দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল বারীর খাস কামরায় অপহৃতা মাদ্রাসা ছাত্রীর জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিজুল মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে বিজুল গ্রামের মতিউর রহমানের কন্যা মাদ্রাসা ছাত্রী মরিয়ম আখতার (১৬)-কে অপহরণকারী জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। অপহরণকারীরা মরিয়মকে অজ্ঞানের ইনজেকশন দেয়ার সময় তার চিৎকারে লোকজন টের পেয়ে এলাকাবাসী অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। অপহরণকারীরা মরিয়মকে নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুরে ফেলে দিলে এলাকাবাসী মাইক্রোবাসটি ঘেরাও করে আটক করে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা মাইক্রোবাসের চালক লিটন (২১)সহ ৭ জনকে গণপিটুনি দেয়। অপহরণকারী ৬ জন হচ্ছে ওমর ফারুক (২৭), নুরুন্নবী (২৮), রায়হান কবির (২৯), কৌশিক আলম (২৮). ছোটন (২৩) ও রাসেল মিয়া (৩০)-কে আটক করে। জনতা আটক ৬ জনকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। অপহৃতা মরিয়মের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় বিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিদ্দিকুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত ৭ জনকে চিকিৎসা শেষে শনিবার দুপুরে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বিচারক রোববার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন লোক দেখানো: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন লোক দেখানো। হইচই হবে, মিছিল হবে, সবাই স্লোগান দেবে। তবে নির্বাচনের দুই দিন আগে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। এর মধ্যে বিএনপির একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ধরে নিয়ে গেছে। একদিকে গ্রেপ্তার চলছে, ভয়-ভীতি-আতঙ্ক চলছে, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এগুলো লোক দেখানো। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

শুক্রবার তাঁতীদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

প্রহসনের নির্বাচনের পরও কেন বিএনপি অংশ নিচ্ছে- এর ব্যাখ্যায় ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থিত রাজনৈতিক দল। যদি এই সিটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে তাহলে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করবে। কিন্তু সরকার সেটা করতে দেবে না। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না সেটাই আবার প্রমাণিত হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ওপরে সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব যে কত বেড়েছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ চায়- বিরোধী দল আন্দোলন করুক সরকার পতনের জন্য।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো। সবাইকে বুঝতে হবে- কখন কোথায় কীভাবে আন্দোলন শুরু করতে হবে। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে। তা না হলে হবে না।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেছারুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সবকিছুই একটি চক্রের কাছে জিম্মি: জেএসডি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতারা বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থা, পরিবহন, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সবকিছুই আজ একটি চক্রের কাছে জিম্মি। নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদিত দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় থেকে বিক্রয় মূল্য কম হওয়া, পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, শিক্ষাঙ্গনে হত্যাসহ সব ক্ষেত্রেই এক ভীতিকর নৈরাজ্য চলছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য শ্রমজীবী-কর্মজীবী ও পেশাজীবীদের অধিকার, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে রাষ্ট্র-প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

শনিবার সিলেট দরগাহ গেট এলাকায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ মিলনায়তনে সিলেট জেলা ও মহানগর জেএসডির যৌথ প্রতিনিধি সভায় নেতারা এসব বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেএসডির উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক, প্রধান আলোচক ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল।

সেলিম জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বেবি দেবী, মোজাম্মিল হক, শ্রমিক নেতা কাওছার আহম্মেদ, মোফাজ্জল করিম রাসেল, হাবিবুর রহমান জুয়েল, ওয়ালিউর রহমান ফুলুরী, আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

প্রতিনিধি সভায় মমতাজ হাসান শিবলীকে আহ্বায়ক এবং কাওছার আহম্মেদ ও জাহেদ আহম্মেদ খানকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কমিটি এবং মনিরুদ্দিন মাস্টারকে আহ্বায়ক ও সেলিম জামান চৌধুরী ও বেবি দেবীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট সিলেট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

আসামে কারফিউ শিথিল, ইন্টারনেট এখনও বন্ধ

ভারতের আসাম রাজ্যে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। রাজধানী গুয়াহাটিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে কারফিউ। তবে নিরাপত্তার কারণে ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আবেদন জানায়। আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বিক্ষোভকারীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। ফলে সেখানে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে আসাম, ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ চলছে। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে হাজারও মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া মতো ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আধাসামরিক বাহিনী নামানো হয়। বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। কারফিউ জারি করা হয় গুয়াহাটিতে। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই চলে আন্দোলন। তবে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে রাজ্যে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

আসাম পুলিশের ডিজি ভাস্করজ্যোতি মহন্ত শুক্রবার রাতে জানান, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। নতুন করে যাতে সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে রাজ্যজুড়ে।

তার দাবি, মানুষের উপর জোর করে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করছে না পুলিশ। সাধারণ মানুষ যাতে বাইরে বেরিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারে, সে কারণে লাগাম অনেকটাই আলগা করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছেন মহন্ত।

আসাম ছাড়াও ত্রিপুরা, মেঘালয়েও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে প়ড়েছে। বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়েও পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় শুক্রবারেও। দিল্লিতেও জামিয়া-মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়া, বেলডাঙাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রেল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। ভাঙচুর চালানো এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া মতো ঘটনাও ঘটেছে।

আপনাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না: মোদি

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল নিয়ে আসামবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’

বৃহস্পতিবার সকালে টুইটারে একথা লেখেন মোদি। খবর এনডিটিভির।

সোমবার লোকসভায় এই বিল পাসের পর থেকেই আসাম ও ত্রিপুরায় বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার রাজ্যসভাতেও পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

সংসদের উচ্চকক্ষে ওই বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১২৫টি  এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯৯টি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এবং আমি সংবিধান অনুসারে আসামবাসীর রাজনৈতিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং ভূমি সংক্রান্ত অধিকারগুলোকে ৬ নম্বর ক্লজ অনুযায়ী রক্ষা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আসামে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পি খোঙ্গসাই জানিয়েছেন, গৌহাটি শহরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা এলাকায় টহল দিচ্ছে।

এছাড়া তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড় ও জোড়হাট জেলাতেও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

গৌহাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং রাজ্যের ১০টি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে কারফিউ উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালেও আসামের জনগণ প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।

কমিশনের লোভে অযথা পরীক্ষা নিরিক্ষা

শরীয়তপুর জেলা সংবাদদাতা : শরীয়তপুর জেলা সদরসহ অপর ৫ উপজেলা সদরে ব্যাঙ্গের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে বে-সরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টার। এসব ক্লিনিক গুলো সেবার নামে চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট ব্যবসা। চিকিৎসা ফি, অপারেশন চার্জ, সিট ভাড়া, পরীক্ষা নিরীক্ষা বাবদ রোগীদের কাছ থেকে গলাকাটা চার্জ নিচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই সাথে এক শ্রেণীর অসাধু ও অর্থলোভী চিকিৎসক বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্ট্রিক সেন্টার ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর গ্রহণ করছেন কমিশন। আর এ কমিশনের মাত্রা বেশী পকেটে ঢুকাতে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয় বলে রোগীদের অভিযোগ।
জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দগুলোতে লোকবল ও যন্ত্রপাতি বিকল ও সল্পতার অযুহাতে এক্সে, ইসিজি, আল্টাস্নোগ্রাম, এমআরআই সহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়। আর যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পরে থাকায় ও এসব পদে জনবল নিয়োগ না দেয়ার নেপথ্যেও রয়েছে কমিশন বানিজ্য। এ বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এটি বন্ধে মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও বিভাগকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ও উপজেলার একাধিক প্রাইভেট ক্লিনিক ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টার ও হাসপাতালের শীর্ষ কর্তারা জানান, চিকিৎসকের কমিশন বানিজ্যের কারনে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। পরীক্ষা ভেদে ২০ ভাগ থেকে শুরু করে ৩৫ এমনকি ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কমিশন না পেলে চিকিৎসকরা রোগীকে অন্য জায়গায় পাঠানোর হুমকী দিয়ে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই কমিশন দিয়ে থাকে। যদি চিকিৎসককে কমিশন দিতে না হতো তবে রোগীদের চার্জ অনেকটাই কমে আসতো।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা দুর্নিতী প্রতিরোধ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজ্জম ফরিদী বলেন, ক্লিনিক গুলোর স্থায়ী রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালে তা নেই। আবার জেলা উপজেলায় কর্মরত যে সকল চিকিৎসক ক্লিনিকের সাথে জড়িত তারাই মাঝে মাঝে রোগী দেখেন তখন আবার সরকারি হাসপাতালের রোগীরা বঞ্চিত হয়। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সহ উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে গিয়ে দেখা গেছে স্থানীয় ক্লিনিকের দালালরা চিকিৎসকের চেম্বারে সাহেবী কায়দায় বসে গল্পগুজব করছে। চিকিৎসক তাদেরকে খুশি করতেও অন্তত একটি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন বলে জানা যায়। পরীক্ষা নিরিক্ষা দেয়ার পরই শুরু হয় রোগীকে নিয়ে দালালদের টানা হেচরা। ফলে চিকিৎসা নিতে এসেও ভোগান্তিতে পরে তারা।
এব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল্যাহ বলেন, আমি আমার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বলে দিয়েছি তারা যেন অহেতুক পরীক্ষা নিরিক্ষা না দেন। দালাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন স্থানীয় লোকজন রোগীর সেবার নামে এসব করে। মাঝে মধ্যে পুলিশের হাতে আটকও হয়।
সিভিল সার্জন ডাঃ মসিউর রহমান বলেন, কমিশন যারা দেয় এবং নেয় তারা কাজটি গোপনে করে। এ বিষয় প্রমান পেলে আমি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিব। আমি এখানে যোগদানের পর থেকে দালাল চক্রের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। আমি কোন চিকিৎসকের টেবিলে কোন প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের পেইড, কার্ড বা স্লিপ পেলেও সে সূত্রে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্থরা সচেতন হলেই কেবল এ অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিএনপি আদালতেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়: নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি আইন মানে না, নিয়মনীতি মানে না, আদালত মানে না। তারা রাজনীতির মাঠ ছাড়িয়ে আদালতেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে মুলিবাড়িতে শহীদ এম মনসুর আলীর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আদালতের ওপর। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। বরং বৃহস্পতিবার বিএনপিপন্থি আইজীবীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আদালতই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি বলেন, আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এমন আচরণে প্রধান বিচারপতিও উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা সঠিক পথে রাজনীতি করুক- এটা জনগণের কাম্য। তা না হলে ভবিষ্যতে তাদের আরও খেসারত দিতে হবে।

দাবি আদায়ে সিপিবির ১৫০০ কি.মি পদযাত্রা

দেশের ৬০টি জেলায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথে পদযাত্রা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

ব্যবস্থা বদলাও, দুঃশাসন হঠাও এবং বিকল্প ব্যবস্থা গড়ার ১৭ দফা দাবিতে নভেম্বরে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ডিসেম্বরেও অব্যাহত থাকবে বলে দলটি  বুধবার জানিয়েছে।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে দলের সব জেলা ও উপজেলা কমিটিকে গণতন্ত্র-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দেশ ও শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের জান বাঁচানোর দাবিতে পদযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

হ্যাক হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার ফোনও!

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ফোন হ্যাক হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হ্যাকিংয়ের জন্য দলটি আঙুল তুলেছে দেশটির সরকারের দিকে। রোববার এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তখ্য জানানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে ভারতের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর ফোন হ্যাক করার খবরের মধ্যেই প্রিয়াঙ্কার ফোন হ্যাক হওয়ার খবর এলো।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফোন হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করেন। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রফুল প্যাটেলের ফোন হ্যাক হওয়ার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রনদ্বীপ সুরযেওয়ালা রোববার সাংবাদিকদের জানান, যাদের ফোন হ্যাক হয়েছে তাদের সবার কাছেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ পাঠানো হয়। যার মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই রকম একটি মেসেজ পাঠানো হয় প্রিয়াঙ্কাকেও। তবে প্রিয়াঙ্কার টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই মেসেজ পাওয়ার পরপরই ডিলেট করে দেন কংগ্রেস নেত্রী। পরে সুরযেওয়ালার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে একই রকম একটি মেসেজ প্রিয়াঙ্কার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তার ফোনটি হ্যাক হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, সে রকম একটি মেসেজ প্রিয়াঙ্কা পেয়েছিলেন।

ফেসবুকের একটি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ। গত সপ্তাহে ফেসবুকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এনএসও নামে ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি হোয়াটসঅ্যাপের সারভার ব্যবহার করে অনেকের ফোনেই আড়িপাতার চেষ্টা করেছিল। ২০টি দেশের এক হাজার ৪০০ ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

স্পাইওয়্যার এক ধরনের সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি যা ব্যবহারকারীর অজান্তে তার মোবাইল বা কম্পিউটারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই ব্যবহারকারীর সব পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বরের তালিকা, ছবিসহ যাবতীয় তথ্য পেয়ে যায় আড়িপাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের ওই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীসহ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে তাদের টার্গেট করেছিল। এই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে গত বুধবার মামলা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। গত এপ্রিল ও মে মাসে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কার ফোন হ্যাক হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এর জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। কংগ্রেস নেতা সুরযেওয়ালা বলেন, ফোন হ্যাক করার এসব তৎপরতার সব খবর বিজেপি সরকারের কাছে ছিল।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গত মে মাসে হোয়াটসঅ্যাপ ফোন হ্যাকিংয়ের বিষয়ে তারা সরকারকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরেও হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ ভারত সরকারকে স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে ফোন হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠানটি ১২১ ভারতীয় নাগরিককে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সে সময় তারা যে তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের কাছ থেকে পেয়েছিল তা পর্যাপ্ত ছিল না।

সুরযেওয়ালার অভিযোগ, তার দেশের সরকার ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠানটিকে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। নিজেদের দুর্নীতির ভারে তাদের পতন হবে। যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটবে। কখন ঘটবে এটা কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগের মতো ঘটনা আরো ঘটবে। ঘটতে থাকবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের আর কোনো ভবিষ্যৎ নাই। এখন ভবিষ্যৎ আছে দেশের নবীনদের, জনগণের। সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, যতই এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অভিযান চালাক না কেন, এটা একটি আইওয়াশ। এটা (দুর্নীতি দমন) সত্যিকার অর্থে তারা পারবেন না। কারণ তাদের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, শাখা-প্রশাখার এতো গভীরে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে যে, এখান থেকে উদ্ধার পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ফলে তাদের নিজেদের কারণেই তাদের পতন হবে।

শুদ্ধি অভিযানে সরকারপ্রধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সরকার যদি সিরিয়াসই হন তাহলে শুধু যুবলীগ, ছাত্রলীগ কেন, জনগণের কাছে সব মন্ত্রী ও এমপিদের সম্পদের হিসাব দিন। তাহলে বুঝব যে, আপনারা সিরিয়াস। এই দুর্নীতি দূর করুন, এই দুর্নীতি আপনাদের দুর্নীতি, আপনাদের দলের ভেতরের দুর্নীতি, সরকারের ভেতরের দুর্নীতি। এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের পতন হতে বাধ্য এবং হবে।’

খালেদা জিয়ার জামিনে ‘সরকারের প্রতিবন্ধকতার’ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। যেদিন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন সেদিন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা (ক্ষমতাসীনরা) রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। হতাশ হওয়ার কারণ নাই। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, আইনের শাসন ফিরে আসবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী যারা জেলখানায় আছেন তারা মুক্তি পাবেন এবং যেসব মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করা হবে। দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আনার চেষ্টা করবো।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক দলের নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি চেয়ে বলেছেন, আন্দোলনের জন্য সবাই প্রস্তত। এ আন্দোলনে তিনি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তত রয়েছেন বলে জানান।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেছে। শুধু প্রসব কখন হবে জাতি আজ সেই প্রহর গুনছে। অচিরেই সেই প্রহরের অবসান ঘটবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।