Blog

আওয়ামী লীগের চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সবক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল সরকার দেশ-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। তাদের চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।’

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের দিন-রাত সারাক্ষণ আতঙ্কে কাটে। চারদিকে অপকর্মের স্তুপ এতো বিকট আকার ধারণ করেছে যে, বিএনপিকে গালমন্দ করা ছাড়া এই মুহুর্তে তাদের স্টকে আর কিছু নেই। তাই মন্ত্রী- এমপিরা প্রলাপ বকেন আর বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করেন।’

রিজভী বলেন, ‘সারা বিশ্বে এখন আলোচিত দুর্নীতিবাজ সরকার হলো ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ। যত অপকর্ম করছে আওয়ামী লীগ, আর জনরোষের ভয় দেখাচ্ছেন বিএনপিকে। কি হাস্যকর কথা! যদি সৎ সাহস থাকে তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তখন দেখা যাবে কারা জনরোষে পড়ে।’

অর্থ পাচার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট এই সরকারের উদ্দেশ্য জনস্বার্থ নয়, এই উদ্দেশ্য জনগণের অর্থ সম্পদ লুটপাট ও টাকা পাঁচার। এদের আমলে দেশের ব্যাংকগুলো প্রায় দেউলিয়া অথচ বিদেশের ব্যাংকে জমছে বাংলাদেশ থেকে পাঁচার করা টাকা। সুইস ব্যাংকে সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০১৯ সালে শুধুমাত্র সুইসজারল্যান্ডের কয়েকটি ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। এই সরকারের গত এক দশকে দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা পাঁচার হয়েছে। রাষ্ট্রের আনুকুলেই এই অর্থ লোপাট ও পাচারের কাজগুলো হয়েছে। এসব টাকা থাকলে সরকারকে এখন দেশের রিজার্ভের টাকার দিকে নজর দিতে হতো না।’

বিএনপি এখন মানসিকভাবে বিপন্ন, তারা নিজেরাই জনরোষের ভয়ে আতঙ্কে আছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তার এই কথায় প্রতীয়মান হয় যে, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল মিডনাইট সরকার দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। নিজেদের আয়না এখন কেবল জনগনের দল বিএনপিকে কল্পনা করছেন।’

বন্যা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ অপ্রতুল: সিপিবি

দেশের বিভিন্নস্থানে বন্যার প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। নেতারা বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে বন্যা মোকাবিলায় বেসরকারি ও সামাজিক নানা উদ্যোগের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাই বন্যার্ত মানুষ সরকারি উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

শনিবার সিপিবি’র ‘কভিড-১৯ রেসপন্স টিমে’র ভার্চুয়াল সভায় নেতারা আরও বলেছেন, এবার করোনা মহামারির মধ্যে বন্যা দেখা দেওয়া মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে গেছে। বন্যা মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এই বন্যার্ত মানুষ বাঁচাতে ত্রাণ, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।

সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় নেতা লক্ষ্মী চক্রবর্তী, রফিকুজ্জামান লায়েক, মিহির ঘোষ, আবদুল্লাহ কাফী রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, আহসান হাবিব লাবলু, মাহবুবুল আলম, ডা. ফজলুর রহমান।

বাম জোটের মানবপ্রাচীর কর্মসূচি সফল করার আহ্বান: সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সোমবার সকাল ১১টায় ‘বঙ্গভবন থেকে গণভবন মানবপ্রাচীর’ কর্মসূচি এবং সব জেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পাট ও পাটশিল্প রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনতাকে যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

তেজপাতায় সৌন্দর্য চর্চা

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সৌন্দর্য চর্চায় তেজপাতার গুরুত্বের কথা বলা হয়েছেছবি: ফ্রিপিক

যদি বলি তেজপাতা ত্বকের বলিরেখা দূর করে তারুণ্য ধরে রাখে তাহলে চমকাবেন না কিন্তু। এর ভেষজগুণে বলি রেখা দূর করার উপাদান আছে বলেই স্বীকার করেন বিউটিশিয়ানেরা। মসলা হিসেবে তেজপাতার ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সৌন্দর্য চর্চায় এর গুরুত্বের কথাও স্বীকার করা হয়েছে। ফলে শত শত বছর ধরে হাতের কাছের যেসব জিনিস দিয়ে সৌন্দর্য চর্চা করে আসা হচ্ছে তেজপাতা সেগুলোর অন্যতম।

শুকনো তেজপাতা

শুকনো তেজপাতা
ছবি: উইকিপিডিয়া

এখানে জানিয়ে রাখি, প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রই যে সৌন্দর্য চর্চায় তেজপাতার কথা বলেছে তাই নয়। আধুনিক বিজ্ঞানও সেটা স্বীকার করে। তেজপাতা থেকে পাওয়া তেল বিভিন্ন দামি পারফিউম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এর বাকল থেকে পাওয়া তেল দিয়ে সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ তো গেল তেজপাতাকে মেশিনে দিয়ে তার তেজকে ভেঙেচুড়ে অন্য একটি জিনিস বানিয়ে তার ব্যবহারের কথা। কিন্তু হাতের কাছে থাকা আস্ত তেজপাতা কীভাবে ব্যবহার করবেন সৌন্দর্য চর্চায় সে বিষয়ে কিছু টিপস দিয়ে রাখি।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে

অধ্যাপক ডা. আশরাফ চৌধুরী জানাচ্ছেন, তেজপাতার উদ্ভিজ্জ উপাদান ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টির জন্য দায়ী ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর জন্য তিনি মুখে তেজপাতা সেদ্ধ করা পানির ভাপ দিতে বলেছেন। তেজপাতা সেদ্ধ করা পানির ভাপ অ্যান্টি এইজিং সলিউশন হিসেবে কাজ করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সৌন্দর্য চর্চায় তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার

সৌন্দর্য চর্চায় তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার
ছবি: দারিয়া শেভৎসোভা, পেকজেলস ডট কম

ত্বক উজ্জ্বল করতে

বিউটি ক্রিমের দৌরাত্ম্য শেষ হয়নি আমাদের জীবনে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা সৌন্দর্য চর্চায় ভেষজে উপাদানের সহায়তা নিচ্ছি ত্বক উজ্জ্বল করতে। অধ্যাপক ডা. আশরাফ চৌধুরী জানাচ্ছেন, তেজপাতা আপনার ত্বক উজ্জ্বল করতে সহায়তা করতে পারে। কীভাবে? বেশি পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ পানি ঠান্ডা করুন। তারপর সে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তেজপাতা সেদ্ধ ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত মুখ ধোয়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার পাশাপাশি ব্রণের জন্যও এটি উপকার করবে।

শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে

তেজপতার গুঁড়ো গরম পানিতে ভিজিয়ে স্নান করলে শরীরের দুর্গন্ধ কমে

তেজপতার গুঁড়ো গরম পানিতে ভিজিয়ে স্নান করলে শরীরের দুর্গন্ধ কমে
ছবি: সংগৃহীত

কত কিছুই তো আমরা ব্যবহার করি শরীর থেকে দুর্গন্ধ তাড়াতে। এবার শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে প্রায় বিনা পয়সার একটি টিপস দেওয়া যাক আপনাদের। রান্নার জন্য কেনা শুকনো তেজপাতা গুঁড়ো করে নিন। পরিষ্কার এক টুকরো কাপড়ে গুঁড়ো তেজপাতা দিয়ে পুঁটলি বাঁধুন। গুঁড়ো তেজপাতার সেই পুঁটলি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন কুসুম গরম পানিতে। তারপর সে পানি দিয়ে স্নান সেরে নিন। শীতে গরম পানিতে স্নান করার অভ্যাস আমাদের আছে। এ সময় এই টিপসটি কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। একদিন তেজপাতা গুঁড়ো দিয়ে স্নান করলেই হবে না। এটা চালিয়ে যেতে হবে এক নাগাড়ে কিছুদিন।

খুশকি দূর করতে

আপনার প্রিয় ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু মাঝে মাঝে শ্যাম্পুর জায়গায় তেজপাতা সেদ্ধ করা ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়াও কমে যাবে। চুল পড়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে তেজপাতার এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহার করুন। তাতে চুল আর উঠবে না।

দাঁত উজ্জ্বল করতে

মাঝে মাঝে দাঁতে কাচা তেজপাতা ঘষে নিলে দাঁত উজ্জ্বল হয়

মাঝে মাঝে দাঁতে কাচা তেজপাতা ঘষে নিলে দাঁত উজ্জ্বল হয়
ছবি: উইকিপিডিয়া

ব্রাশ তো প্রতিদিন করেনই। সেটা অব্যাহত রাখুন। ডা. আশরাফ চৌধুরী জানাচ্ছেন, নিয়ম করে মাঝে মাঝে দাঁতে কাচা তেজপাতা ঘষে নিন। কাচা তেজপাতা মাউথ ওয়াশ হিসেবেও কাজ করবে আপনার মুখে।

লাইনচ্যুত ট্রেনের মতো রাজনীতিও লক্ষ্যচ্যুত

পঙ্কজ ভট্টাচার্য ঐক্য ন্যাপের সভাপতি ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। ৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে জেল খেটেছেন। সমাজ ও রাজনীতির হালচাল নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান

  • আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যে আদর্শের কথা বলে, তৃণমূলের নেতারা তা পালন করেন না। সেখানে দেখা যায়, টাকা দিয়ে পদপদবি কেনা যায়। জামায়াতের লোকজনও আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। দুর্নীতিবাজেরা ঢুকে পড়েছে।
  • বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমলে যত অর্জন হয়েছে, সব রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল নয়। সামাজিক শক্তিরও বিরাট ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের ভূমিকা ছিল। শুধু রাজনীতি দিয়ে সমাজ বদলানো যাবে না।

 

আপনারা বলেন, পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই সব অধোগতির শুরু। কিন্তু তিয়াত্তরের নির্বাচনেও তো কারচুপি হয়েছে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: তিয়াত্তরের নির্বাচনেও কারচুপি হয়েছে। ১২-১৩টি আসনে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আসনে ন্যাপের বিজয়ী প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের অনেকে মনোনয়নপত্রও জমা দিতে পারেননি। তবে সেই নির্বাচনে কারচুপি না হলেও আওয়ামী লীগই জয়ী হতো। ক্ষমতার পরিবর্তন হতো না।

তখনকার রাজনীতির সঙ্গে এখনকার ফারাকটা কোথায়?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: একাত্তরে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাস্ত করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ৯ মাসের মধ্যে সংবিধান রচিত হয়েছিল। সেই সংবিধানে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি ছিল না। এরপরও বলব, এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান ছিল। এরপর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হলো। আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আছে। আমাদেরও ব্যর্থতা আছে। আশির দশকে, নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগ যেখানে ছিল, সেখানে নেই।

আওয়ামী লীগের আপসটা কী?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: তারা বলছে সংবিধানে চার মূল নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। আবার রাষ্ট্রধর্মও রেখে দিয়েছে। দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না। তারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ করার কথা বলছে। আবার হেফাজতে ইসলামের পরামর্শে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেছে। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে এসব করতে হবে। জনগণের ওপর আস্থা কমে গেলে এ অবস্থা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যে আদর্শের কথা বলে, তৃণমূলের নেতারা তা পালন করেন না। সেখানে দেখা যায়, টাকা দিয়ে পদপদবি কেনা যায়। জামায়াতের লোকজনও আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। দুর্নীতিবাজেরা ঢুকে পড়েছে।

স্বাধীনতার পর আপনারা (ন্যাপ-সিপিবি) আওয়ামী লীগের সঙ্গে লীন হয়ে গেলেন কেন?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও পাকিস্তানকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও আমাদের চিন্তাধারার মিল ছিল। ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিপিবি নেতা মণি সিংহ ও খোকা রায়ের বৈঠকে হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলন ও শ্রমিক আন্দোলন আমরা একসঙ্গে করেছি। যদিও ঐক্যের বিষয়ে মতভেদ ছিল। স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক বাস্তবতা আমাদের ওই দিকে ঠেলে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের সমর্থন ছিল। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধিতা এবং উসকানি ছিল। তখন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখাই মুখ্য ছিল। এরপরও মনে করি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে না গিয়ে গঠনমূলক বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল।

একদা বাম রাজনীতি করতেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই ছিল আপনাদের মূল স্লোগান। সেখান থেকে সরে এলেন কেন?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমরা উপলব্ধি করলাম, অন্য কোনো দেশের মডেল বা মতাদর্শের রাজনীতি দিয়ে এগোনো যাবে না। বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী রাজনীতি করতে হবে। এ কারণেই প্রচলিত বাম ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মানবতাবাদী রাজনীতি করেছি।

একসময় চীনপন্থীদের সম্পর্কে দল ভাঙার অভিযোগ ছিল। এখন মস্কোপন্থীরাও নানা ভাগে বিভক্ত। এর পেছনে আদর্শ না নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কাজ করেছে?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: এখানে আদর্শ গৌণ। মূলত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির দ্বন্দ্বই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আমি নতুন করে ঐক্যের চেষ্টা করছি। গণতান্ত্রিক পার্টি, ন্যাপ মোজাফ্‌ফরের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। তাঁদের অনেকেই একমত যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে বাইরে থেকে একটা চাপ সৃষ্টি করা দরকার, যাতে রাষ্ট্র অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে দূরে সরে না যায়। আমরা সমাজের ন্যায়–নীতিনিষ্ঠ মানুষগুলোকে একত্র করতে চাই। গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির উদ্বোধন চাই।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রত্যয় ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রের এখন কী অবস্থা?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: এটি একটি বড় বিষয়। পাকিস্তান আমলে যে গণতন্ত্র ছিল, যে নির্বাচন ছিল, যাতে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে; এখন তো সেই নির্বাচন নেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনই তো দেশকে স্বাধীনতার পথে নিয়ে গেল। গণতন্ত্র এখন মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে, মানুষের অন্তরে নেই। বর্তমানে গণতন্ত্র হলো প্রশাসনিক গণতন্ত্র, আমলাতান্ত্রিক গণতন্ত্র।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে পাকিস্তান আমল থেকে আপনারা আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন করে সামরিক শাসককে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। যার লক্ষ্য ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন। এখন সেই পরিবেশ কি আছে?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: মানুষ আস্থা হারিয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন একের পর এক দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে চলেছে। এই ব্যবস্থা না বদলালে মানুষকে নির্বাচনমুখী করা যাবে না। ভোটারশূন্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তাতে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটছে না। আমরা যদি সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। গণতন্ত্রের যে ক্ষীণধারা চলছে, তা–ও হয়তো হারিয়ে যাবে।

নির্বাচনী ব্যবস্থা যে ভেঙে পড়ল, এ জন্য কাকে বেশি দায়ী করবেন? সরকার না নির্বাচন কমিশন?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: নির্বাচন কমিশন সিংহভাগ দায়ী। এই কমিশন হলো মেরুদণ্ডহীন। ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিত হলেই তারা সন্তুষ্ট হয়। সরকারও সন্তুষ্ট। সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা এটি করতে পেরেছে।

২৩ বছর আগে পার্বত্য চুক্তি সই হয়েছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ কী?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। সরকার বলছে তিন ভাগের দুই ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বলছে, তিন ভাগের এক ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, বাঙালিদের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতলের জাতিগোষ্ঠী থেকেও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁদের ওপর ঔপনিবেশিক শাসন চালানো গৌরবের কথা নয়। সমতলের জাতিগোষ্ঠীর লোকজনও বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন নির্বিকার। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। বাস্তবায়ন হয় না। গাইবান্ধায় তিনজন সাঁওতালের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হলো। রাষ্ট্র দায় নিল না। যাঁরা উচ্ছেদ হলেন, তাঁরা পৈতৃক সম্পত্তিও ফেরত পেলেন না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সমতলের জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের কথা বলেছিল। বাস্তবায়িত হয়নি।

করোনাকালে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: করোনার কারণে চাকরি হারানো, জীবিকা হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা আছে। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর নির্দেশ পৌঁছায় না। আজ স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, সড়ক বিভাগের অবস্থা খুবই নাজুক। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট যে রায় দিলেন, তা–ও বাস্তবায়িত হয় না।

রাজনীতির পাশাপাশি আপনি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত। সেটি কি রাজনৈতিক হতাশা থেকে?

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: ১৯৯৬ সালে এসে দেখলাম রাজনীতি বৃহত্তর মানুষের জীবনকে তেমন স্পর্শ করতে পারছে না। বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ নিজেদের মতো প্রতিবাদ করছে। এই সামাজিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অজয় রায়ের মতো মানুষ এর সঙ্গে ছিলেন। এর মাধ্যমে আমরা অসাম্প্রদায়িক শক্তির সমাবেশ ঘটাতে চেয়েছিলাম। অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগাতে চেয়েছিলাম। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হলো। ডাকসুর নির্বাচনেও নতুন শক্তির উত্থান দেখলাম। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন নির্বাচনে জয়ী হলো। প্রচলিত ছাত্রসংগঠনগুলো সাধারণ ছাত্রদের সমর্থন পেল না। এরপর কিশোর-তরুণেরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করল। এ কারণে এখনো আশাবাদ আছে। নতুন প্রজন্ম জাগবে। সবাইকে নিয়েই পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমলে যত অর্জন হয়েছে, সব রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল নয়। সামাজিক শক্তিরও বিরাট ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের ভূমিকা ছিল। শুধু রাজনীতি দিয়ে সমাজ বদলানো যাবে না।

করাচি হামলার নেপথ্যে রয়েছে ভারত, দাবি ইমরান খানের

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে স্টক এক্সচেঞ্জের অফিসে হামলার ঘটনায় ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মঙ্গলবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে তিনি এই দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, করাচি হামলার নেপথ্যে রয়েছে ভারত। বিগত দুমাস ধরেই এমন হামলার আশঙ্কা করছিলেন আমাদের গোয়েন্দারা। এই বিষয়ে আমার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও জানেন।’ তবে সোমবার নয়াদিল্লি পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ হামলায় ভারতের কোনো হাত নেই। খবর দ্য প্রিন্ট।

গত সোমবার পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে ভবনে হামলা  সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন। মৃতদের মধ্যে দুজন সাধারণ নাগরিক ও কমপক্ষে চারজন বালুচ বিদ্রোহী রয়েছে বলে জানা যায়। হামলার ঘটনার কিছুক্ষণ পরে বিষয়টির দায় স্বীকার করে ‘বালুচ লিবারেশন আর্মি’।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বহুদিন ধরে কেন্দ্রীয় শাসকদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে তা বেলুচিস্তানের প্রকৃত প্রয়োজনে না লাগিয়ে কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

গত মাসেই বালুচ বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৯ পাকিস্তানি সেনা। প্রদেশটিতে ক্রমেই জোরাল হচ্ছে স্বাধীনতার দাবি। রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাকিস্তানি সেনাদের অমানুষিক অত্যাচার। এরকম  পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫ সালে স্বাক্ষর হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে চীন-পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি নির্মাণকার্য শুরু হয়েছে। চীনের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের অর্থ সাহায্যেই এই করিডর তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তানের গদর পোর্ট থেকে চীনের শিনজিং প্রদেশ পর্যন্ত মোট দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি তৈরি করা হচ্ছে।

তবে এই করিডর নিয়ে প্রথম থেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছেন বালুচিস্তানসহ গিলগিট, বালতিস্তান ও পিওকের জনগণ। তাদের অভিযোগ, পেশিশক্তির জোরপূর্বক তাদের বাসভূমি কেড়ে নিয়ে এই করিডর তৈরি করছে পাকিস্তান। এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন বালুচ নাগরিকরা।

নাসিমের মৃত্যুতে বিএনপির শোক

প্রবীণ রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি। শনিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে শোক প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি, দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি একজন প্রবীন জননেতা, ১৪ দলের সমন্বয়ক। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান মির্জা ফখরুল।

অপর এক শোক বার্তায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

রাজনীতি জামায়াতের সাবেক নেতাদের দলের আত্মপ্রকাশ ২ মে জামায়াতের সাবেক নেতাদের দলের আত্মপ্রকাশ ২ মে

জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে আসা  ও দলটি থেকে বহিষ্কৃত নেতারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২ মে তা আত্মপ্রকাশ করবে। ওই দিন দলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। গঠন করা হবে কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন গঠন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মনজু সোমবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

একাত্তরে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাড়া না পেয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত ছাড়েন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। পরদিন বহিষ্কার হন সংস্কারের দাবিতে সরব হওয়া ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মনজু। একই দাবি জানিয়ে দল ছাড়েন জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য এবং রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীসহ আরো কয়েক নেতা।

জামায়াত থেকে বহিষ্কার ও দলত্যাগী নেতারা নতুন দল গঠনের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৭ এপ্রিল ‘জনআকাক্ষার বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। এ ব্যানারে বছর ধরে দেশের সব জেলায় মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

সোমবার সেগুনবাগিচাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অনলাইন ভিডিও ব্রিফিংয়ে মজিবুর রহমান বলেছেন,  দেশে-বিদেশে হাজারো নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন তারা। তাদের সবার দেশ নিয়ে আশা, হতাশা আর স্বপ্নের কথা শুনেছেন। সবার মতকে ধারণ করে ২ মে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন তারা।

করোনা সঙ্কটের মধ্যে দল গঠনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। তাই আগেভাগেই দল গঠন করা হচ্ছে।

এ এফ এম সোলাইমান চৌধূরী বলেছেন, করোনা সংকট নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সরকার কতটা ব্যর্থ। দেশ গড়তে তারা নতুন দল গঠন করবেন।

অনলাইন বিফ্রিংয়ে যোগ দেন জনআকাঙ্খার কেন্দ্রীয় সংগঠক অধ্যাপক ডাঃ মেজর (অব.) আঃ ওহাব মিনার, এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া প্রমুখ।

ভারতে লকডাউন কিছুটা শিথিল

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে টানা লকডাউনে রয়েছে ভারত। তবে এবার এই ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মেনে খোলা যাচ্ছে কিছু দোকানপাট।

শনিবার থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে লকডাউন চলছে; যা আগামী ৩ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে । এই সময়ের মধ্য সবাইকে ঘরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

লকডাউন কিছুটা শিথিল করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নির্দেশিকায় বলেছে, রাজ্যগুলোর পুরসভা এলাকার বাইরে বসতিপূর্ণ এলাকা ও বাজার এলাকায় এখন থেকে দোকানপাট খোলা যাবে। শপস অ্যান্ড এস্ট্যাবলিশমেন্ট আইনের আওতায় যেসব দোকান নথিভুক্ত আছে, তারা শনিবার থেকে ব্যবসা চালু করতে পারবে।

তবে দোকান খুলতে হবে করোনা সংক্রান্ত কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে। নতুন নির্দেশিকার ফলে পুরসভা এলাকার বাইরে বাজার, বা আবাসনের আশেপাশে সব ধরণের দোকান খোলার অনুমতি পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, শপিং মল বা সুপার মার্কেটগুলি এখনও বন্ধ থাকছে। ফলে, মল বা মার্কেট কমপ্লেক্সে থাকা দোকানগুলো এখনই খোলা যাবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোকান খোলা গেলেও বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। একইসঙ্গে মাস্ক পরতে হবে আবশ্যিকভাবে। তবে হটস্পট ও সংক্রামক এলাকায় কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ সেই এলাকাগুলিতে কোনও দোকান খোলা যাবে না বলে জানিয়েছে সরকার।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনযায়ী, আবাসিক অঞ্চল এবং আশেপাশের বাজারগুলির সমস্ত দোকান খোলা থাকবে। ‘শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট’-এ নথিভুক্ত সমস্ত দোকান এবং বাজার খুলতে পারে। শহরাঞ্চলে, কেবল স্ট্যান্ড স্টোন শপ এবং আবাসিক দোকান খোলা যাবে। সেলুন আবার খুলতে পারে, তবে শপিং কমপ্লেক্সের মধ্যে ওই দোকানগুলো থাকলে তা খোলা যাবে না।

আবাসিক অঞ্চলে ছোটছোট টেলারিং শপ বা সেলাই-ফোঁড়াইয়ের দোকান খোলা যাবে। সমস্ত দোকান ও বাজারে আগে যে পরিমাণ লোক কাজ করতো এখন তার থেকে অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ চালাতে হবে। ই-কর্মাস সংস্থাগুলি শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ডেলিভারি দিতে পারবে। পুর নিগম এবং পুরসভা অঞ্চলের বাইরে কিছু কিছু শপিং কমপ্লেক্স খোলা যাবে।

লকডাউনের মধ্যে বন্ধ থাকবে যেসব দোকান সেগুলো হলো- মল ও সিনেমা হল। মুম্বইয়ের বিকেসি বা দিল্লির খান মার্কেট এবং নেহরু প্লেসের মতো কমপ্লেক্সে থাকা দোকানগুলি।পুর নিগম ও পুরসভা এলাকার বাইরে থাকা মাল্টি-ব্র্যান্ড এবং সিঙ্গল-ব্র্যান্ডের মলগুলির দোকান। শপিং কমপ্লেক্স, মার্কেট কমপ্লেক্সে থাকা দোকানগুলো, মাল্টি ব্র্যান্ড এবং সিঙ্গেল ব্র্যান্ডের মল। জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সুইমিং পুল, থিয়েটার, বার এবং অডিটোরিয়াম। মদের দোকান। মলে থাকা বুটিকগুলো।

মহানবী (সা:) কে নিয়ে কুটূক্তি করায় নাস্তিক মাহাদি’র ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে এথিস্ট নোট নামে একটি অনলাইন পোর্টালের একটি ম্যাগাজিনে জঘন্য ও ঘৃণ্য কুটূক্তি করার অভিযোগে বর্তমান ব্লগারদের মধ্যে অন্যতম এমডি মাহাদি হাসানের ফাঁসির দাবিতে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের মতে মাহাদি যে এই প্রথম মহানবী (সা:) কে নিয়ে কুটূক্তি করেছেন এমনটি নয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নিজের ফেসবুক পেইজ এবং এবং বিভিন্ন ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে মহানবী (সা:), আল্লাহ এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে খুবই জঘন্য ভাষায় লিখে আসছে।

আজ সোমমার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মাতুয়াইলে বিশ্বনবীর (স:) মর্যাদা রক্ষা ও নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও হেফাজতে ইসলামের ডাকে এই সমাবেশে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসাসহ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও অংশ নেন।

এর আগে গতকাল (১৬ই ফেব্রয়ারী) রবিবার মোকাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৮ ধারায় হৃদয় কাজী নামে হেফাজতে ইসলামের এক কর্মী মাহাদী হাসান সহ এথিস্ট নোটের ম্যাগাজিননের সকল ব্লগার এবং নাস্তিকদের নামে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সমাবেশের অন্যতম ব্যক্তি হৃদয় কাজীর কাছে সাংবাদিকরা এই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমাদের জানান যে, ”৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে কেউ এমন জঘন্য কুটূক্তি করবে, আমাদের প্রাণের পিয় মানুষটিকে নিয়ে এভাবে উল্টা পাল্টা লেখালেখি করবে আর আমরা বসে থাকবো?”

তিনি আরোও বলেন, ”দেখুন মাহাদি নামের এই নাস্তিকের দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কার্যকলাপগুলো চালিয়ে আসছে। নিজের ফেসবুকে প্রতিনিয়তই মুহাম্মদ (সা:) এবং আল্লাহকে নিয়ে খুবই বাজে বাজে স্ট্যাটাস, এদেরকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।”

হৃদয় কাজী সহ এই সবাবেশে উপস্থিত থাকে সকল বক্তারা অবিলম্বে কটূক্তিকারী এমডি মাহাদি হাসনের ফাঁসি এবং সরকারকে বিশ্বনবীর বিরুদ্ধে অবমাননার জন্য ফাঁসির দন্ডের বিধান রেখে আইন পাশের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন বক্তারা। এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মামলার আসামি মাহাদি হাসানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক মাস যাবতই এথিস্ট নোট নামের এই ওয়েবসাইটি ইসলাম, আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ (সা:)কে নিয়ে লেখালেখি করে আসছে। আর এরই ধারাবাহীকতায় এবার তারা একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে এবং এখানেও মুসলমানদের কলিজা মুহাম্মাদ (সা:) সহ যেসব বিষয়গুরো তুলে ধরা হয়েছে যা দেখেই হেফাজতে ইসলাম এতো ক্ষিপ্ত হয়েছে এবং এই ম্যাগাজিনের সকলের নামে মামলাও দায়ের করেছে।

করোনা: সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে অর্থিক সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে অর্থিক সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

এহসাস ইমারজেন্সি ক্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সানিয়া নিশতার।

এক টুইট বার্তায় নিশতার জানান, করোনার সংকট মোকাবিলায় ক্যাশ পোগ্রামের জন্য দেশজুড়ে ১৭ হজার পেমেন্ট পয়েন্ট গড়ে তোলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ১২ হাজার রুপি করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণসহ করোনা পরিস্থিতিতে নানা সংকট মোকাবিলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহায়তা প্রত্যাশীদের এই সেবা নিতে সরকারের দেওয়া একটি নম্বরে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বে ম্যাসেজ পাঠাতে হবে। সার্বিক বিষয়ে জানতে ফোন করার জন্যও একটি নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে ড. নিশাত বলেন, গড়ে একেকটি পরিবারে সাতজন সদস্য ধরলে অন্তত আট কোটি মানুষকে সহায়তা দেয়া হবে। যদি দেখা যায়, প্রকৃত বিপদগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখের বেশি হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিসভায় আবারও প্রস্তাব তোলা হবে।