Blog

স্বাস্থ‌্যবি‌ধি মে‌নে এইচএস‌সি প‌রীক্ষা চান জিএম কা‌দের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘মেধাবীদের স্বার্থে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) প‌রীক্ষা বা‌তি‌লের সিদ্ধান্ত পুন‌র্বিবেচনা ক‌রা উ‌চিত। যেখানে সব কিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে, সেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি প‌রীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া যেতে পারে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় সবার জন্য এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল নির্ধাণ করা হতে পারে, কিন্তু যারা প‌রীক্ষায় অংশ নিতে চায় তাদের জন্য এইচএসসি প‌রীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে সরকার।’

শ‌নিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সভায় জিএম কা‌দের বলেন, ‘দেশ থেকে ধর্ষণ বিদায় করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের বিচার করতে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুততার সাথে বিচারের রায় কার্যকর করলেই দেশ থেকে ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যধি দূর করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে আসে এবং অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পাবে না।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং খুলনা বিভাগীয় জাতীয় পার্টি অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, যখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলছে, তখন বাংলাদেশে যোগ হয়েছে ধর্ষণের মহামারি। প্রকাশ্য দিবালোকে নারী তার সম্মান হারাচ্ছে এটা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, দেশের মানুষ শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা চায়। শুধু উন্নয়ন দিয়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর শাসনামলে দেশে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস ছিলো না।

এ সময় আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, ব্যরিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন হাজী মো. নাসির উদ্দিন সরকার। শ‌নিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান  দলীয় মনোনয়ণ প্রত্যাশিদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করে হাজী মো. নাসির উদ্দিনকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণা করেন।

এর আগে বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, এডভোকেট সালামা ইসলাম এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

যেকোনো সময় সরকারের সিংহাসন ডুবে যাবে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সরকারকে উদ্দেশ্য বলেছেন, আপনারা মনে করছেন আপনাদের অনেক ক্ষমতা। ধরে নিয়ে যাবেন, গুম করে দেবেন। কিন্তু কখন যে আপনাদের সিংহাসন চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাবে আপনি সেটা টেরই পাবেন না।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দুজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেনো করা হয়েছে? তারা কি কোনো অন্যায় করেছে? কোনো দুর্নীতি করেছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত করার যে আইন আছে সেই আইনের মধ্যে কি তারা পড়েছে? অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে কেনো চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা আপনারা জানেন। তিনি জিয়াউর রহমানের নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখেছেন। এইটা হচ্ছে অপরাধ।

তিনি বলেন, একেএম ওয়াহিদুজ্জামান রাজনীতির করুণ দশা নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে মামলা করা হলো, চাকরিচ্যুত করা হলো ডা. মোর্শেদকে। ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, মামলা নিষ্পত্তি হয়নি, তার আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি সরকারে উদ্দেশ্য বলতে চাই, আপনি যদি বলেন যারা ভিন্নমতে বিশ্বাসী, যারা বিরোধী দলের বিশ্বাসী, তোমাদের খাওয়ার অধিকার নাই, তোমাদের তৃষ্ণা পেলে পানি খাওয়ার অধিকার নেই, তোমরা ক্ষুধায়- তৃষ্ণায় মরে যাও। আপনি এই কর্মসূচি দেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড কী? ছাত্রদের পড়ানো। শিক্ষকতা করা। ড. মোর্শেদ তাই করতেন। তিনি মেট্টিক থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত সবগুলোই ফার্স্টক্লাস পাওয়া। মেট্টিক ও ইন্টারমিডিয়েটে স্ট্যান্ড করেছে। তাকে বহিষ্কার করা হলো। ওয়াহিদুজ্জামানও সবগুলোতে প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত শিক্ষক। না হলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। ড. মোর্শেদের অতুলনীয় মেধা। তাকে ভিন্নমতের কারণেই চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরিতে পুর্নবহালের দাবিও এ সময় জানান তিনি।

মানববন্ধনে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মৎসজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে

তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চার প্রকৌশলীসহ প্রতিষ্ঠানটির আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার ঢাকা ও নারায়ণঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটকের পর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেককে দুই দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-তিতাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বি, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারি প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মুনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, হেলপার মো. হানিফ মিয়া ওকর্মচারী মো. ইসমাইল প্রধান।

এর আগে মসজিদে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার ৩ দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই ৮ জনকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে মসজিদের ভেতরে ৩৪ জন দগ্ধ হন। ওই ঘটনায় মসজিদের আশপাশে থাকা আরও ৩ জন দগ্ধ হন।

দদ্ধ ৩৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার পর্যন্ত ৩৩ জন মারা যান। চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

সোহরাওয়ার্দীতে পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও চিকিৎসকদের, ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকরা নিরাপদ আবাসনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। এই দাবিতে তারা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

শনিবার সকালে তারা এই অলটিমেটাম দেন। এ সময় নিরাপদ আবাসনের দাবিতে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবায় নিযুক্ত চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, উপ-পরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ এবং মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও কোভিড ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রিপনের কক্ষ ঘেরাও করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলেন, আমাদের কোনো আবাসনের ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ করতে পারেনি। অথচ দৈনন্দিন দায়িত্বপালন শেষে বাসায় ফিরতে হবে। একাধিক চিকিৎসকের পরিবারের একাধিক সদস্য আমাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। অনেক চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা এভাবে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপরেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এভাবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। তাই আমরা কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এর ভেতরে কোয়ারেন্টিনের কোনো সমাধান না হলে, আমরা কোভিড ইউনিটে আর ডিউটি করব না। তবে হাসপাতালের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাব।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহারাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও কোভিড ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শাহাদাৎ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই আমাদের লোকবল কম। তারপর কোভিডের পাশাপাশি ননকোভিড চিকিৎসাও চলছে। যেহেতু কিছু চিকিৎসক কোভিড চিকিৎসায় নিযুক্ত তাই তাদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তাই বাধ্য হয়ে তাদের বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব। পাশাপাশি অন্যান্য হাসপাতালে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে সেটি দেখে পরবর্তীতে করণীয় নির্ধারণ করার চেষ্টা করব।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসকরা আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন, তাদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য। চিকিৎসকদের দাবি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইতোমধ্যে আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মন্ত্রণালয়কেও এটা জানাব।

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর ছয় হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবায় যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলের সুবিধা বাতিল করা হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার মধ্যে দায়িত্বপালনকারী একজন চিকিৎসক দৈনিক দুই হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮০০ টাকা, একজন নার্স ঢাকার মধ্যে এক হাজার ২০০ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকা এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী ঢাকার মধ্যে ৮০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৬৫০ টাকা ভাতা পাবেন।

ঢাকা ওয়াসার পরিচালক পদে ষষ্ঠবারের মতো তাকসিম এ খান।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের চুক্তির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ছে। শনিবার ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ৯৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অনলাইনে অনুষ্ঠিত ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৬ জন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দেয়। এ কারণে বোর্ড প্রকৌশলী তাকসিমের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড সদস্য এবং ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) সভাপতি এ কে এম এ হামিদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ (শনিবার) ওয়াসা বোর্ডের সভা ছিল। ওই সভায় সংস্থার বর্তমান এমডির চুক্তির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর চারবার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে ওয়াসা বোর্ড। পঞ্চমদফা চুক্তির সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ অক্টোবর। নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভার এটা আলোচ্য সূচীতে না থাকায় এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না।

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান ড. এম এ রশিদ সরকার গত ১০ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের আগেই তড়িঘড়ি করে এমডি নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড।

এদিকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ তথ্যসূত্র অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের বিশেষ সভায় শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম উল্লেখ করে তাকে আবারো তিন বছর মেয়াদে পুননিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্তের কথা বলা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী এ পদে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছিল কিনা, কারা আবেদন করেছিলেন, কেন তারা যোগ্য বিবেচিত হলেন না বা কেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকই একমাত্র উপযুক্ত প্রার্থী। কেন সংশ্লিষ্ট বিধি অবমাননা করে মেয়াদের পর মেয়াদ একই ব্যক্তিকে অপরিহার্য, এসব প্রক্রিয়াগত প্রশ্নের উত্তর যাচাই করা হয়েছে কিনা, তার কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না বা করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, বিশেষ করে স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে অপারগতার কারণে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডেরও অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’

দলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় পছন্দের লোক খুঁজছেন তারেক রহমান।

দলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় নিজের পছন্দের লোক খুঁজছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আস্তে আস্তে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের বসাতে শুরু করেছেন। তবে কমিটি গঠন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় তিনি বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সংগঠন হিসেবে বিএনপির বর্তমান যে কাঠামো সেটি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলকে তিনিই দেশের অন্যতম বড় দলে পরিণত করেন। দলটির বিভিন্ন কমিটিতে শীর্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ নেতাকে ‘খালেদা জিয়ার টিম’ বলে মনে করা হয়। কিন্তু আড়াই বছর ধরে বড় ছেলে তারেক রহমান দলের হাল ধরেছেন। আর এ কারণেই দলে তাঁর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আছে। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। কারণ তারেক রহমানকে তাঁরা কেউ অসন্তুষ্ট করতে চাইছেন না।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দল সাজানোর ঘটনা সত্যি নয়। বিএনপির সবাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দলে কোনো বিভাজনও নেই।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদ শূন্য হলে যোগ্য নেতাদেরই পদায়ন করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুন্দরভাবে দল পরিচালনা করছেন।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘বিএনপির সবাই তাঁর (তারেক রহমান) পছন্দের। সবাই তাঁর।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘তারেক রহমান যাঁদের যোগ্য বলে মনে করেছেন তাঁদেরই বিভিন্ন পদে মনোনীত করেছেন। আর যোগ্য বলে দলও তাঁদের গ্রহণ করেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নেতা বলেন,  ‘ওয়ারিশ সূত্রে সব কিছুর মালিক তারেক রহমান। সেই অর্থে আমার মালিকও তিনি। তা ছাড়া তাঁর মা খালেদা জিয়ার পদায়নকৃত নেতাদের কেউ তো তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছেন না।’

একটি দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দল পরিচালনা করছেন তারেক। দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল বৈঠকগুলোতে সভাপতিত্ব করছেন তিনি। গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হওয়ায় কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের ‘ফিরোজা’য় আছেন। তবে দল পরিচালনার ওই নিয়মের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারের পাশাপাশি বিএনপির আইনজীবী নেতারাও বলছেন, আইনগতভাবে খালেদা জিয়া এখনো মুক্ত নন। ফলে আপাতত তিনি রাজনীতি করতে পারছেন না। পাশাপাশি শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ভবিষ্যতেও তিনি রাজনীতি করতে পারবেন কি না এ নিয়েও দলের সর্বস্তরে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ কারণে নানামুখী আলোচনা সত্ত্বেও দলটির সিনিয়র নেতারা আস্তে আস্তে তারেকের কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, অনেক কিছু অপছন্দ হলেও রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁরা দলের বাইরে গিয়ে ‘অনাস্থা বা অবিশ্বাসে’র খাতায় নাম লেখাতে চান না।

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নাম। এক-এগারোর পর সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর সমর্থক বলে পরিচিত অনেকের রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়। মান্নান ভূঁইয়ার সমর্থকদের কেউ কেউ বিএনপি ছেড়ে গেছেন। আবার অনেকে দলে ফিরতে পারলেও কোণঠাসা অবস্থায় আছেন।    

১৯৮৩ সাল থেকে খালেদা জিয়ার একক নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে বিএনপি। দল পুরোপুরি তাঁর নেতৃত্বে থাকার সময় তারেক রহমানের প্রভাব থাকলেও সেটি তেমন দৃশ্যমান ছিল না। যদিও ২০০১ সালের নির্বাচন পরিচালনা এবং মন্ত্রিসভা গঠনের নেপথ্যে তারেকের বেশ কিছু সমর্থক স্থান পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে বসার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারেকের ভূমিকা প্রথম দৃশ্যমান হয় খালেদা জিয়া কারাগারে থাকতে। ২০১৯ সালের ১৯ জুন স্থায়ী কমিটিতে তিনি মনোনয়ন দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সেলিমা রহমানকে। ওই দুজন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হলেও দলে এ নিয়ে সমালোচনা হয়নি। তবে ওই সময় কেউ কেউ বলেন যে স্থায়ী কমিটিতে তারেকের মতামতের পক্ষে কথা বলার লোকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি গঠনও তারেকের পছন্দের লোকদের সমন্বয়ে হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। কমিটির চেয়ারম্যান পদে আমির খসরু ছাড়াও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরসহ বেশ কয়েকজন সদস্য তারেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তারেকের সমর্থক হলেও নওশাদ জমিরকে নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সমালোচনা আছে। 

এর আগে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগরীর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠিত হয় তারেক রহমানের পছন্দের লোকদের দিয়ে। ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যার আসামি এম এ কাইয়ুম অনেক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলেও তারেকের ইচ্ছায় তাঁকেই উত্তরের সভাপতি করা হয়। তবে ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনা আছে। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত কাইয়ুম দেশে ফিরতে পারছেন না বলে মনে করা হয়। ওই ঘটনায় মহানগর উত্তর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হাতে উত্তরের কমিটির নেতারা লাঞ্ছিত হন।

সর্বশেষ তারেকের সিদ্ধান্তে ওই কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ নিয়েও কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৭ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে আহসান উল্লাহ হাসান মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটির সহসভপাতি আবদুল আলী নকিকে। কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার কথা।

এদিকে গত সংসদ নির্বাচনের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী বাধা ও আপত্তির কারণে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কমিটি অনেক জায়গায় করতে পারেননি তারেক রহমান। এ নিয়েও দলে অনেক ধরনের আলোচনা আছে। তারেকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাইফুল আলম নিরবের নেতৃত্বে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি যুবদলের আংশিক কমিটি  ঘোষিত হলেও আজ পর্যন্ত দেশের সব জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুই দফায় সময় বাড়ানো হলেও চলতি সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটির ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় হঠাৎ করেই গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গসংগঠন উদ্যোগ নিয়েও তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। বরিশাল বিভাগে বেশির ভাগ জেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কমিটি গঠন করা যায়নি।

গঠনের দু’দিনেই পরিবর্তন জাপার ফেনী কমিটিতে

গঠনের দু’দিনের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) ফেনী জেলার আহ্বায়ক কমিটিতে। গত শনিবার গঠিত কমিটির আহ্বায়ক পদ একদিন পর ছেড়ে দেন সংরক্ষিত আসনের এমপি নাজমা আকতার। পরদিন সোমবার আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী রাশেদ।

মঙ্গলবার জাপার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ফেনী জেলার আহ্বায়ক কমিটিতে রদবদল করেছেন। এর আগে অনুমোদিত কমিটির আহ্বায়ক নাজমা আকতারের পরিবর্তে কমিটির সদস্য মোতাহের হোসেনকে আহ্বায়কে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাকি সদস্যরা বহাল রয়েছেন। ৫১ সদস্যের এ কমিটির উপদেষ্টা পদে বহাল আছেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফেনী-৩ আসনের এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

কমিটির নতুন আহ্বায়ক ‘১/১১’-এর অন্যতম কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে জাপায় যোগ দেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন।

গঠনের দু’দিনের মাথায় কমিটিতে রদবদলের বিষয়ে মাসুদ চৌধুরীর বক্তব্য জানা যায়নি। নাজমা আকতার সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে বলেছেন, তার সঙ্গে আলোচনা না করে কমিটি করা হয়েছে। যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে, তাদের অনেককে রাখা উচিত হয়নি। যাদের ওপরের দিকে রাখা দরকার ছিল তাদের নিচে পাঠানো হয়েছে। মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেননি নাজমা আকতার। তিনি বলেছেন, মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চান না। কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে সম্মান নষ্ট করার চেয়ে পদত্যাগ করাকে ঠিক মনে করেছেন।

মালাওয়ির রাস্তাঘাটে বিক্রি হচ্ছে ভাজা ইঁদুর

আফ্রিকার দেশ মালাওয়ির রাস্তায় রাস্তায় এখন বিক্রি হচ্ছে তেলে ভাজা ইঁদুর। অসম্ভব দরিদ্র এই দেশের জনগণের বেশিরভাগেরই সামর্থ্য নেই যে বাজার থেকে মাছ বা মাংস কিনে খাবে। তাই করোনাপীড়িত এই দেশটিতে মানুষের জন্য বিকল্প জৈব প্রোটিনের উৎস হিসেবে স্থান দখল করেছে ইঁদুর।

করোনার পীড়নে লকডাউন চলছে মালাওয়িতে। খাবারের দোকান বেশির ভাগই বন্ধ। যেগুলো খোলা আচে, সেগুলো মাথা গলানো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব ব্যাপার। মালাওয়ির রাস্তাঘাটের পার্শ্ববর্তী গ্রামের অনেকেই হাতে করে বিক্রি করছেন ইঁদুর ভাজি। এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের সময় অনেকের কাছে ইঁদুর ভাজি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খবর ডেইলি মেইলের।

মালাওয়ির অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন। এমনিতেই খাদ্যভাব ও অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত দেশটির জনগণ। করোনার বিধিনিষেধ এই দরিদ্র মানুষদের নিয়ে গেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ফলে নিজেদের খাদ্য ও উপার্জনের জন্য কৃষি জমিতে বাসা বাধা ইঁদুর ধরতে হাত লাগাচ্ছেন সবাই।

স্থানীয় এক ইঁদুর শিকারী ও বিক্রেতা বার্নার্ড সিমেওন বলেন, করোনা শুরুর পর থেকে জীবন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে জীবিকার জন্য আমাদের ইঁদুর শিকার ও বিক্রির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

মালাওয়ি সরকার এই করোনাকালে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। করোনার কারণে যারা বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের মাসপ্রতি ৫০ ডলার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা রক্ষা করতে পারছে না।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান পুষ্টিবিদ সিলভেস্টার কাথুম্বা জনগণকে ইঁদুর  খেতে উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ব্যাপকহারে ইঁদুর হত্যা করা হলে পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে আসবে।

নতুন বছরের ফ্যাশন: স্বাস্থ্য আর স্বস্তির জয়জয়কার

সারা দুনিয়াতেই করোনার ঢেউ এসে, সব সময় বাইরে যাওয়া, বাইরের পোশাক পরা, বাইরের উপযোগী সাজগোছের গুরুত্ব কমিয়ে আনছে। দিনের একটা বড় সময় এখন মানুষ ঘরে কাটায়। হোম অফিস, অনলাইন ক্লাস, জুম মিটিং, অনলাইন ইন্টারভিউ বা ভিডিও কনফারেন্সে আত্মীয়–বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই পরিচিত ব্যাপার ঘরে ঘরে। তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বা ব্যবসার খাতিরে হোক অথবা দরকারি বাজার সদাই, কেনাকাটা ও সীমিত পরিসরে পারিবারিক বা অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য হোক, বের আমাদের হতেই হয়। তাই ঘরে ও বাইরে সামনের বছর সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে ফ্যাশনের গতিবিধির নিরিখে। দেখা যাচ্ছে, ২০২১–এর ফ্যাশনের পূর্বাভাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আটপৌরে ফ্যাশনের প্রাধান্য থাকবে সামনে

আটপৌরে ফ্যাশনের প্রাধান্য থাকবে সামনে
ছবি: প্রথম আলো

এদিকে আরামদায়ক, স্বস্তিকর পোশাক ও ব্যবহারের দিক থেকে উপযোগী বিভিন্ন অনুষঙ্গই সবার পছন্দের শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে নতুন বছরে। এবার ২০২১–এর সম্ভাব্য প্রধান ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলো দেখে নেওয়া যাক।

আরামদায়ক পোশাক

স্বস্তিকর ও আরামদায়ক পোশাকই মূলত ফ্যাশন দুনিয়া কাঁপাতে যাচ্ছে সামনের বছর

স্বস্তিকর ও আরামদায়ক পোশাকই মূলত ফ্যাশন দুনিয়া কাঁপাতে যাচ্ছে সামনের বছর
ছবি: পেকজেলস ডট কম

স্বস্তিকর ও আরামদায়ক পোশাকই মূলত ফ্যাশন দুনিয়া কাঁপাতে যাচ্ছে সামনের বছর। ফিরে আসছে ব্যাগি জিনস ও ঢিলেঢালা ট্রাউজার। করোনার এই সময়ে অস্বস্তিকর এবং পরতে কষ্টকর, এ রকম জামাকাপড় মানুষ একেবারেই কিনতে ও পরতে চাচ্ছে না বিশ্বজুড়েই। সেকুইন্স বসানো অথবা অতিরিক্ত আঁটসাঁট দম আটকানো ফিটিংসের জামাকাপড় তাই মনে হচ্ছে তোলাই থাকবে এ বছর। সুতি কাপড়, যাতে ত্বক শ্বাস নিতে পারে, ধোয়া ও শুকানো সহজ, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ার ভয়ে উষ্ণতার সাহস দেওয়া উলের বোনা কাপড় এসবই এখন দুনিয়াজুড়ে সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে।

একরঙা কালো মাস্ক ও বিভিন্ন রকমের মাস্ক চেইন

কালো ব্যাগ বা কালো জুতার মতোই কালো মাস্ক নারী-পুরুষ নির্বিশেষের ফ্যাশন অনুষঙ্গ বলে বিবেচিত হচ্ছে

কালো ব্যাগ বা কালো জুতার মতোই কালো মাস্ক নারী-পুরুষ নির্বিশেষের ফ্যাশন অনুষঙ্গ বলে বিবেচিত হচ্ছে
ছবি: পেকজেলস ডট কম

মাস্ক যে এখন একটি প্রধানতম ফ্যাশন অনুষঙ্গ, তা নিয়ে আর কোনোই সন্দেহ নেই। নো মাস্ক নো সার্ভিসের বাধ্যবাধকতায় আর মহামারি থেকে বাঁচার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে ঘরের বাইরে মাস্ক পরার আর কোনো বিকল্প নেই কোথাও। তাই সময়ের প্রয়োজনেই এ বছর মাস্ক হয়ে উঠবে অত্যাবশ্যক ফ্যাশন অনুষঙ্গ। বর্ণিল, মজার মজার মেসেজ বা থিমনির্ভর মাস্কের সঙ্গে সঙ্গে, ফ্যাশন সচেতন মানুষ ইদানীং একরঙা কালো মাস্কের দিকে ঝুঁকছে। কালো ব্যাগ বা কালো জুতার মতোই কালো মাস্ক নারী-পুরুষ নির্বিশেষের ফ্যাশন অনুষঙ্গ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বৈচিত্র্য আনতে তিন স্তরের ফেব্রিক মাস্কের ওপর মসলিন বা নেটের স্তর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হাইতির মাস্কগুলোর বাইরের লেয়ারটি কালো সিল্ক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে, যা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এদিকে মাস্কের সঙ্গে বিভিন্ন রকমের মাস্ক চেইন ব্যবহার করা এখন আসন্ন ট্রেন্ডগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে।

মাথার স্কার্ফ

মেয়েরা একরঙা আর ফুলেল প্রিন্টের স্কার্ফের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে

মেয়েরা একরঙা আর ফুলেল প্রিন্টের স্কার্ফের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে
ছবি: পেকজেলস ডট কম

চুল ও মাথাকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য হলেও মাথার স্কার্ফে বৈচিত্র্য আনা যায় নির্দ্বিধায়। মেয়েরা একরঙা আর ফুলেল প্রিন্টের স্কার্ফের দিকে আগ্রহ দেখালেও ছেলেদের ব্যান্ডানা বা পট্টির ক্ষেত্রে মজার মজার প্রিন্ট এমনকি সুপারহিরো থিমের ডিজাইনও দেখা যাচ্ছে।

নেট বা জালিদার কাপড়

সময়ের ফেরে ঘুরেফিরে সেই নেটের কাপড় আবার প্রবেশ করতে চলেছে ফ্যাশন দুনিয়ায়

সময়ের ফেরে ঘুরেফিরে সেই নেটের কাপড় আবার প্রবেশ করতে চলেছে ফ্যাশন দুনিয়ায় 
ছবি: পেকজেলস ডট কম

সময়ের ফেরে ঘুরেফিরে সেই নেটের কাপড় আবার প্রবেশ করতে চলেছে ফ্যাশন দুনিয়ায় জোরেশোরে। মাস্ক, মেয়েদের লম্বা মোজা বা টাইটস, হ্যান্ড গ্লাভস, ড্রেস অথবা টপস, সব জায়গাতেই নেট ফেব্রিকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এমনকি জিনস ও টি–শার্টের ওপরে কিছুটা লম্বা, হাতকাটা কোটির মতো পরার ফ্যাশন এখন খুবই আগ্রহ জাগাচ্ছে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে।

ফুলেল ও বর্ণিল ডাই, প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি

ফুলেল ছাপা ও এমব্রয়ডারির প্রাধান্য সামনের বছর আরও বৃদ্ধি পাবে

ফুলেল ছাপা ও এমব্রয়ডারির প্রাধান্য সামনের বছর আরও বৃদ্ধি পাবে
ছবি: পেকজেলস ডট কম

মহামারির দুর্বিষহ আর বিবর্ণ ২০২০ সালকে বিদায় দিচ্ছে ফ্যাশন দুনিয়া। আতঙ্ক নয় সচেতনতা, ভয় নয় আশা—এই সব বার্তা নিয়েই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফ্যাশন হাউসগুলোতে উজ্জ্বল রং, যেমন রাজকীয় নীল বা রানি গোলাপি রঙের বসন–ব্যসনের মেলা। ফুলেল ছাপা ও এমব্রয়ডারির প্রাধান্য সামনের বছর আরও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই ভাবছেন ফ্যাশনবোদ্ধারা। এমনকি জ্যাকেট বা জিনসের ডেনিমেও আঁকিবুঁকি, ডাই, ব্লক, রঙিন সুতার কাজ দেখা যাচ্ছে।

চপ্পল, স্লিপারে অভিনব ডিজাইন

ঘরে পরার চপ্পল বা স্লিপারের দিকে মনোযোগ বেড়েছে ফুটওয়্যার কোম্পানিগুলোর

ঘরে পরার চপ্পল বা স্লিপারের দিকে মনোযোগ বেড়েছে ফুটওয়্যার কোম্পানিগুলোর 
ছবি: পেকজেলস ডট কম

ঘরে পরার চপ্পল বা স্লিপারের দিকে মনোযোগ বেড়েছে ফুটওয়্যার কোম্পানিগুলোর তরফ থেকে। মজার ও আরামদায়ক ডিজাইনের ফ্লিপ ফ্লপ এখন ভবিষ্যতের ফ্যাশন ট্রেন্ড। সেই সঙ্গে আরামদায়ক স্পোর্টস শুরুর দিকে সবার আগ্রহ আরও বাড়বে। কারণ, বিশ্বব্যাপী সবাই এখন বাইরে গিয়ে জগিং বা হাঁটার গুরুত্ব এই সময়ে আরও বেশি করে অনুধাবন করছে।

বাসার কাপড়ে ডিজাইনার ছোঁয়া

বাসায় পরার পোশাক এবং রাতপোশাকের ক্ষেত্রে এত বৈচিত্র্য আর মনোযোগ মনে হয় আর কখনো ফ্যাশন দুনিয়া দেখেনি। বড় বড় ফ্যাশন হাউসগুলো পায়জামা সেট, আরামদায়ক ড্রেস তৈরি করছে নতুন বছরেও সবার আপাতত ঘরে থাকার প্রবণতাকে উৎসাহ দিতে গিয়ে। সুতি, পিউর সিল্ক, নিট ফেব্রিক এবং সাটিন কাপড় ব্যবহার হচ্ছে এই সব পোশাকে। আর্টিফিশিয়াল তন্তু বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক কাঁচামাল এখন পোশাকশিল্পে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

বড় ব্যাগ ও পানির বোতল রাখার হোল্ডার

ওভারসাইজড টোটে ব্যাগ বা হাতব্যাগ ফিরে এসেছে ফ্যাশন দুনিয়ায়

ওভারসাইজড টোটে ব্যাগ বা হাতব্যাগ ফিরে এসেছে ফ্যাশন দুনিয়ায়
ছবি: পেকজেলস ডট কম

হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, আই প্রোটেক্টরসহ কত কিছুই না নিয়ে যেতে হচ্ছে বাইরে বেরোলে আজকাল। সে জন্যই বোধ হয় ওভারসাইজড টোটে ব্যাগ বা হাতব্যাগ ফিরে এসেছে ফ্যাশন দুনিয়ায়। অ্যাকসেসরিস যদি কাজেই না লাগল, তবে কি আর লাভ বলুন! তাই দেখনদারি সর্বস্ব ক্লাচ ব্যাগের দিন ফুরিয়ে বড় ব্যাগ রাখাই এখন ফ্যাশনেবল। আবার এদিকে, ফেন্দি বা গিভেঞ্চির মতো ফ্যাশন হাউসগুলোর বাইরের পোশাকের সঙ্গে পানির বোতল রাখার হোল্ডারযুক্ত ছোট্ট ব্যাগ দেখা যাচ্ছে, যাতে কোনো কোনোটিতে হালকা স্ন্যাক্স রাখারও ব্যবস্থা আছে। করোনার সময়ে বাইরে গিয়ে নিজের বাড়ি থেকে আনা পানি ও খাবার খেতে উৎসাহিত করতেই এই ব্যবস্থা।

নতুন বছরের ফ্যাশন যেন মহামারির আতঙ্কের মধ্যেও আমাদের কাছে মুক্তি আর আশার আলোর প্রতীক। সারা বিশ্বেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যে প্রত্যয় মানুষের মধ্যে এসেছে, তাই আরও দৃঢ় রূপ নেবে সামনের দিনে পোশাক–আশাক আর অনুষঙ্গের উপযোগিতায়, এমনটাই বলছে আগামী দিনের ফ্যাশনের পূর্বাভাস।

মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে দেশে আসছেন শাবানা

বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানাকে নিয়ে কয়েক দিন আগে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। চলচ্চিত্রাঙ্গণে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়। অবশেষে জানা গেল, তিনি মারা যাননি। মৃত্যুর এই গুজব উড়িয়ে দিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা থেকে তিনি ঢাকায় আসছেন। শিল্পী সমিতির সাধারণ স¤পাদক অমিত হাসান জানান, গত বৃহ¯পতিবার বিকেলে হঠাৎ করেই গুজব ছড়ায়, শাবানা ম্যাডাম মারা গেছেন। পরিচিতজনদের অনেকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ফোন করেন। এরপর রাতেই শাবানা ম্যাডামের খুব কাছের কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন, শাবানা ম্যাডাম ভালো আছেন। তাদের সঙ্গে ম্যাডামের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এমনকি তারা জানান, ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আসছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে শাবানা হঠাৎ চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। ২০০০ সালে সপরিবারে চলে যান আমেরিকায়। সেই থেকে যুক্তরাষ্ট্রেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মাঝে মাঝে দেশে এসে কিছুদিন থাকার পর আবার চলে যান।